বজলুর রশীদ চৌধুরীসারা বছর চেয়ে থাকি, চৈত্র মাসের আসে,
ছেলেবেলার এই চিন্তা, থাকে পাশে পাশে।
এই মাসের বার তারিখ, ‘হরইর বার্ণী’ হয়,
খুশীর তুফান বইতে থাকে, সকল পাড়াময়।
মায়ের কাছে কেঁদে বলি, অতি মিনত সুরে,
আট আনার পয়সা দাও মা, আসি ‘বার্নী’ ঘুরে।
গাঁয়ের সব ছেলে-মেয়ে যা”েছ ‘হরইর’ মেলা,
হাওয়ার মিঠাই-খৈ কিনবে, দেখবে কত খেলা।
মঙ্গলবারে ‘কেউন বার্ণী’ বিরাট ষাড়ের লড়াই,
নিজ গাঁয়ে বড় ষাড়, করি কত বড়াই।
বিষুদ বারে ‘কাউয়ার বার্ণী’ আহা মরি মরি,
কত রঙ্গের দোকান বসে, সারা মাঠ ভরি।
সুন্দর সুন্দর পুতুল থাকে, আছে সুরের বাঁশি,
ফুক দিয়ে দৌড়ে দৌড়ে, সুরের মাঝে ভাসি।
কত দূরের মানুষ আসে, ‘কাউয়ার বার্ণী’র ডাকে,
আমড়াতৈলের ছেলে-বুড়ো অবশ্যই থাকে।
দুপুর থেকে জমে উঠে ‘কাউয়ার বার্ণী’র মাঠ,
চামারদিঘী পাশে আছে, জল খরচের ঘাট।
বিকালেতে লাঠি খেলা, ষাড়ের লড়াই আছে,
রাতের বেলা গাজীর গীত, নাচি খুশীর নাচে।
পূর্বদিকে জোয়ার আসর, ঝান্ডিমুন্ডা ডাকে,
কেহ কেহ কড়ার মাঝে, কেউ বা চরকির ফাঁকে।
তিন তাসী খেলার পার্টি, আছে কত কত,
পাশ তাস ছবি তাস, দেখায় অবিরত।
ইটখলার বার্ণী আছে, সামনের রবিবার,
এই মেলা জমে উঠে, যুগনী খালের পার।
মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র
No comments:
Post a Comment
bazlurusa@gmail.com