Friday, September 12, 2014

‘গাঁয়ের বঁধূ’


বজলুর রশীদ চৌধুরী
আঁচল ঘেরা মুখটি তোমার অঙ্গ ভরা লাজ,
তুমি আমার গাঁয়ের বঁধূ ঘর দোয়ারের সাজ।
সদাই থাক হাসি-খুশী বচন ভরা মধু,
আদর সোহাগ বিলিয়ে চল-ওগো গাঁয়ের বঁধূ।
সংসার চিন্তায় বিভোর হয়ে কাটাও দিন-রাত,
স্বামী সোহাগ কর তুমি খাইয়ে পান্তা ভাত।
রান্নার কাজ শেষ কর, পাখি ডাকার আগে,
জীবন বাঁচার যত কর্ম সবই তোমার ভাগে।
শ্বশুড়-শ্বাশুড়ী দেবর ননদ আছে তোমার সাথে,
ছেলে-মেয়ের আদর আব্দার মিটাও দিনে-রাতে।
আপন সুখে নও যে সুখী স্বামীর মঙ্গল চাও,
মনের যত ভালবাসা উজাড় করে দাও।
গাছ-গাছালীর ঝরা পাতায় লাকড়ীর অভাব মিটাও,
আত্মীয় এলে খুশী মনে আদার করে নাও।
ঘরের সবাই খেয়ে যায় তোমার খাবার নাই,
গাঁয়ের বঁধূ তোমার মত এমন কোথায় পাই?
অসুখ-বিসুখ কত আছে বিষে অঙ্গ ঝরে,
সকল ব্যথা দূরে যায়-ঝাড় ফুকের ডরে।
ক্ষেতের মাঠে খাটে স্বামী সারা দিন ভর,
মতি হারা হলেও তুমি করনি গো পর।
সারা বছর চেয়ে থাক বাপের বাড়ীর আশে,
জনম গাঁয়ের কত স্মৃতি চোখের জলে ভাসে।
চাওয়া পাওয়া নাইকো বঁধূ শুধু তোমার কাজ,
তুমি আমার গ্রাম বাংলার ঘর সংসারের তাজ।
লেখক-মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র।

Tuesday, September 9, 2014

‘মহা সত্য’

বজলুর রশীদ চৌধূরী


দেহ ভরা শক্তি আছে-আছে রূপের ঢল্,
মন বিহারে কি পেয়েছিস্-বলরে অবুঝ বল্?
পাহাড়-পর্বত কঠিন পাথর, কঠিন উচুঁ চূড়া,
শেওলা দোলায় কেন দোলে, বলবি ওরে বুড়া?
সাগর বুকে অথৈ জল-খেলছে মহা খেলা,
বায়ূ ভরে যায় উপরে-ভাসে মেঘের ভেলা!
সকাল-সন্ধ্যায় জন্ম মৃত্যু-রাত্রি কিম্বা দিন,
ধ্যানের চোখে দেখরে চেয়ে-ফের জনমের চিন!
দু’টি সাগর মিশে আছে দু’টি স্বাদের জলে,
একে অন্যে নাহি ডিংগায়-কোন্ কারনের ফলে,
মাটির উপর কত আহার-দেখরে চেয়ে দেখ,
অস্বীকার তুই কি করিবি,-ধরে নানান ভেখ?
মহাকাশে কত দীপ,-জ্বলছে অবিরত,
বল বাপু, কে জ্বালাল,-সংখ্যা ওদের কত?
রবির কোলে ভূবন দোলে, ভূবন কোলে চাঁদ,
বলতে পারিস্ ওরে খোকা-কোথায় কত বাঁধ?
আলোবিহীন কত জগৎ-অন্ধকারে ডোবা,
নিজের আলোয় ভাসি কত দেখায় আপন শোভা।
অগ্নিভরা বহু ভূবন-নিত্য গ্যাসের ধাওয়া,
মহাতাপে পুড়ছে পাথর-বইছে মহা হাওয়া।
মহাশূন্যের পরিমাপে জ্ঞান বিজ্ঞান লাচার,
দুঃখভরা কণ্ঠে বলে-হায়রে নিরাকার?
সপ্তাকাশের কত লীলা, বুঝবি কেমন করে,
কিসের নেশায় হইলি বেহুঁশ-জ্যান্ত গেলি মরে?
মৃত্যু ভয়ে সদা কাতর বিশ্বভূবন সবে,
বুঝলিনারে অবুঝ মন-বুঝবি তুই আর কবে?
মহাশব্দে ফাটবে আকাশ-সবই পড়বে ঝরে,
তুলার মত উড়বে ভূমি-কাঁপবে সবাই ডরে।
ধনসম্পদের পাহাড় গড়ে বাধাস্ যত লেঠা,
কতদিন তুই থাকবি হেথায়-বলতে পারিস বেটা?
জনমকালে কেমন ছিলে-এখন আছিস কেমন,
যেতে কি আর পারবি সেথায়, যেমন ছিলি তেমন?
ছিলি কোথা,যাবি কই-থাকবি কতদিন,
কিসের তরে এলি হেথায়, শোধ করবি না ঋণ?
মনের আশা সুখের বাসা ফেলে যেথায় যাবি,
কড়ায় গন্ডায় হিসেব তখন-সেদিন সেথায় পাবি।
লা-শরীকের জিকির করে যারে বধির যা,
ঐ দেখা যায় নূরের কিরণ জলদি বাড়া পা।


লেখক-মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র-

Saturday, September 6, 2014

‘প্রত্যাশা’

‘প্রত্যাশা’

বজলুর রশীদ চৌধুরী

দেশের তরে কাঁদি আমি-দেশের তরে হাসি,
যায় চলে যাক্ জীবন আমার দেশকে ভালবাসি।
আপন ভাবনায় নাই বিভোর-জনম ভূমি ভাবি,
শ্রম-মেধায় করবো তৈয়ার সবার সুখের চাবি।
একই সুতায় গাঁথা মোরা মাতৃভূমির লাগি,
রক্তে রক্ষা দেশটি আমার-সবাই ইহার ভাগি।
জনম জনম গাইব গান-মা জননীর সুখে,
যত সুখ আছে ধরায় টেনে নেব বুকে।
স্বাধীন দেশ স্বাধীন ভাষা-স্বাধীন আমার জাতি,
মিলে মিশে থাকবো হেথায়-একে অন্যের সাথী।
কর্মীর হাতে গড়বো দেশ-বুকে রাখি বল,
এত সুন্দর দেশ আমার থাকবেনা আর অচল।
উপর ভাগে সোনার ভান্ডার-নীচে কয়লার খনি,
তেল-গ্যাস আরো কত, দেখবো গনি গনি।
ক্ষেতের মাঠে চলবে চাষী, করবে জমি চাষ,
ধানের ভাঁড়াল ভরবে ধানে-পূরবে মনের আশ।
কলকারখানা গড়ে তুলবো-দেশের কানায় কানায়,
শ্রম-শ্রমিক কইবে কথা দাঁড়িয়ে নিজের পায়।
হাওর বিলে থাকবে মাছ-সাগর জলে আরো,
নদ-নদী খনন করে বাড়াও যত পারো।
নদী নালা করবো খনন-আসবে নির্মল জল,
বান-বন্যার থাকবে না ভয়-ফলবে নানান ফসল।
সোনার দেশের মানুষ মোরা সোনার মন চাই,
যে মনেতে শুধু প্রেম-হিংসা দ্বেষ নাই।
আকুল সুরে ডাকি আমি-ওগো সোনার মানুষ,
ঐ আসিছে আশার আলো-রোধিওনা গো রোষ।

লেখক-মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র।

‘ব্যবধান’

বজলুর রশীদ চৌধূরী


জগৎ ভরা কত মরা অভাব শালার ফাঁদে,
করুন চিত্র দেখে মন ঝুরে ঝুরে কাঁদে।
কেহ খায় উদর ভরে কেউবা উপাস রয়,
কেঁপে কেঁপে হাত বাড়ায়-কার বা দয়া হয়।
অনাহারে অর্ধাহারে কত যায় মারা,
মানবতা কেঁদে মরে-হয় গো দিশেহারা।
রোগে শোকে কত কাতর-ক্ষুদায় উদর জ্বলে,
সবল দেহ পড়ছে নূয়ে-ব্যবধানের ফলে।
রাস্তাঘাটে কত মরা দেখে দেখে যাই,
মারে যারা বাঁচে তারা-মরার বিচার নাই।
মানবতার মুক্ত নিশান উড়ে দেশে দেশে,
কাংগালীরা তবু মরে ক্ষুধার দরিয়ায় ভেসে।
কেউবা গড়ে অট্টালিকা-কেউবা কূঁড়ে ঘর,
কেউবা থাকে গাছতলায়-কেউবা রাস্তার পর।
বিশ্ব জুড়া কাব্য ছড়া গায় মানুষের গান,
মানুষে মানুষে নাই ভেদাভেদ-সকল মানুষ সমান।
সমতার এই মহাস্রোতে যত কটি সাঁতার,
দিনে দিনে বেড়ে উঠে ব্যবধানের পাহাড়।
কত বর্ণের মানুষ বাসে রংগের দুনিয়ায়,
কারো হাসি কারো কান্না-এই তো জীবন যায়।
বিশ্ববাসী ভালবাসি গাও মানুষের গান,
মানবতার নিশান তুলে হও মহীয়ান।

লেখক-মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র।