Wednesday, September 18, 2013

ষড়ঋতু

বজলুর রশীদ চৌধূরী
ষড়ঋতুর দেশ আমাদের কত সুন্দর লাগে,
এক ঋতু শেষ হতে আরেক ঋতু জাগে।
দুই মাসে এক ঋতু বার মাসে ছয়,
এক সমান দুই ঋতু কোন কালে নয়।
মাসে মাসে বদলায় দিন বিধির বিধান বলে,
ফল ফুল খরা বৃষ্টি প্রমান তার মিলে।
ফাল্গুন চৈত্র ফুলে ফুলে, বৈশাখ জৈষ্ঠ্য ফল,
আষাঢ় শাওন বর্ষাকাল, জলের উপর জল।
কার্তিক আগন সোনার ফসল, মাঠে পাঁকা ধান,
খুশীর শানাই বাজায় কৃষক, কন্ঠে ভরা গান।
ভাদ্র-আশ্বিন শীতের বার্তা, গাছে পাকা তাল,
পাড়ায় পাড়ায় পিঠার ধুম আছে সর্বকাল।
হাড় কাঁপানো পৌষ-মাঘে, ভেজা কাঁথার ফাঁক,
আঁধার রাতে ভেসে আসে নিশি পেঁচার ডাক।
শীতকালে শুকিয়ে যায় খাল বিল সারা,
হাওরী পথের বাউরী বাতাস জুড়ায় প্রানের ধারা।

লেখক ঃ মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী

Wednesday, September 11, 2013

‘শ্যামল বাংলা’


‘শ্যামল বাংলা’
বজলুর রশীদ চৌধুরী

শ্যামল সুন্দর বাংলা আমার, সবুজের নাই শেষ
এই তো আমার জন্মভূমি, রূপের বাংলাদেশ।
যত দেখি তারে আমি, আরো দেখতে চাই,
প্রকৃতির রূপের বাহার আমার দেশে পাই।
ফুল ফুটে বার মাস, ফল সারা বছর,
ফলে ফুলে ভরা বাংলা, আছে তার কদর।
আকাশ ঘেঁষা সবুজ পাহাড়, উঁকী দিয়ে চায়,
দেখে যেন মনে হয় নীল আকাশের গায়।
চারিদিকে বনলতা, সবুজ শাড়ী পরে,
সারি সারি ফুলের ঘ্রাণ, তনুমন ভরে।
হাওর বিলে মাছের খেলা, ক্ষেতের মাঠে ফসল,
ঝোঁপ-জঙ্গঁলে ঘুরে বেড়ায়, নিশাচরের দল।
সাগর কোনের বায়ূ টানে, নেমে আসে ঢল,
নদী নালা বয়ে চলে , বৃষ্টি ঝরা জল।
নদীর তীরে গ্রাম-গঞ্জ, সারি সারি ঘর,
একুল ভাঙ্গে ওকুল গড়ে, জাগে নূতন চর।
গো-ধূলিতে বাংলা রানী হলুদ শাড়ী পরে,
সেজে যেন নববধু, যায় বাসর ঘরে।
মাঠের উপর সবুজ ঘাস, কুয়াশার চাঁদর পরে,
এত সুন্দর দেশ আমার, দেখি নয়ন ভরে।
সাগর জলে ভেসে বেড়ায়, হাজার হাজার জেলে,
জীবন তাদের কেটে যায়, মাছের সাথে খেলে।
কত বিশাল সাগর সৈকত, বিশ্ব সেরা বলে,
গায়ের তাপ শীতল করি, সাগর কন্যার জলে।
আরো কত দ্বীপ আছে, চোখে নিশা ধরে,
এক পলকে চেয়ে থাকি, হৃদয় উজার করে।
গাছ গাছালীর সবুজ মেলা, দেখতে লাগে বেশ,
এই তো আমার রূপের রানী, শ্যামল বাংলাদেশ।

মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র।

Thursday, September 5, 2013

‘বারুণী’


বজলুর রশীদ চৌধুরী
সারা বছর চেয়ে থাকি, চৈত্র মাসের আসে,
ছেলেবেলার এই চিন্তা, থাকে পাশে পাশে।
এই মাসের বার তারিখ, ‘হরইর বার্ণী’ হয়,
খুশীর তুফান বইতে থাকে, সকল পাড়াময়।
মায়ের কাছে কেঁদে বলি, অতি মিনত সুরে,
আট আনার পয়সা দাও মা, আসি    ‘বার্নী’ ঘুরে।
গাঁয়ের সব ছেলে-মেয়ে যা”েছ ‘হরইর’ মেলা,
হাওয়ার মিঠাই-খৈ কিনবে, দেখবে কত খেলা।
মঙ্গলবারে ‘কেউন বার্ণী’ বিরাট ষাড়ের লড়াই,
নিজ গাঁয়ে বড় ষাড়, করি কত বড়াই।
বিষুদ বারে ‘কাউয়ার বার্ণী’ আহা মরি মরি,
কত রঙ্গের দোকান বসে, সারা মাঠ ভরি।
সুন্দর সুন্দর পুতুল থাকে, আছে সুরের বাঁশি,
ফুক দিয়ে দৌড়ে দৌড়ে, সুরের মাঝে ভাসি।
কত দূরের মানুষ আসে, ‘কাউয়ার বার্ণী’র ডাকে,
আমড়াতৈলের ছেলে-বুড়ো অবশ্যই থাকে।
দুপুর থেকে জমে উঠে ‘কাউয়ার বার্ণী’র মাঠ,
চামারদিঘী পাশে আছে, জল খরচের ঘাট।
বিকালেতে লাঠি খেলা, ষাড়ের লড়াই আছে,
রাতের বেলা গাজীর গীত, নাচি খুশীর নাচে।
পূর্বদিকে জোয়ার আসর, ঝান্ডিমুন্ডা ডাকে,
কেহ কেহ কড়ার মাঝে, কেউ বা চরকির ফাঁকে।
তিন তাসী খেলার পার্টি, আছে কত কত,
পাশ তাস ছবি তাস, দেখায় অবিরত।
ইটখলার বার্ণী আছে, সামনের রবিবার,
এই মেলা জমে উঠে, যুগনী খালের পার।

মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র