Wednesday, August 13, 2014

‘বাংলার বার মাস’

বজলুর রশীদ চৌধুরী

বাংলাবর্ষের পয়লা মাস বৈশাখ দিয়ে শুরু,
ইহার নাম হালখাতা, সকল মাসের গুরু।
কাল বৈশাখীর তর্জন গর্জন ঘুমন্ত জীব জাগে,
কড়াৎ কড়াৎ চটক বিজলী, প্রাণে ভয় লাগে।
ঝড়ের বেগে গাছ-পালা হেলে দোলে পড়ে,
তারই সাথে শিলা বৃষ্টি ঠান্ডা বাতাস ভরে।
সোনার ফসল তুলে কৃষান, গ্রীষ্মের এই মাসে,
কাক ভেজা রাখাল ছেলে তুফান ঠেলে আসে।
ফলে ভরা জৈষ্ঠ্য মাস, গাছে ফল ঝুলে,
দমকা হাওয়ায় পাঁকা ফল কত সুন্দর দোলে।
আগুন ভরা জৈষ্ঠ্য মাসে কত ফল পাঁকে,
আম-জাম-কাঁঠাল-পিয়ারা আরো কত থাকে।
আষাঢ় মাসে নয়া পানি বাড়ীর কানায় কানায়,
কুল বধূর কক্কন নিক্কন কলসী কাঙ্খে যায়।
উজান-ভাটির নারীর মন করে হায় হায়,
পাল উড়াইয়া কত নৌকা দূর দেশে যায়।
শাওন মাসে খালে নালে কদম ফুল ভাসে,
রোদ দুপুরে বিলের উপর শাপলা-শালুক হাসে,
কূলে কূলে বহে নদী, বৃষ্টি সারাক্ষণ,
হাওর বিলের পদ্মফুল জোড়ায় তনুমন।
ভাদ্র মাসে তালে পিঠা, বাতাস ভরা ঘ্রান,
শারদীয় শিশির ঝরা আকুল করে প্রাণ।
আশ্বিন জানায় শীতের বার্তা শিশির কনা ঘাসে,
সোনাঝরা ঊষা রোদ সারা মাঠ হাসে।
কার্তিক মাসে জলের ভাঁটা, শুকিয়ে যায় খাল,
গাংগের তলায় অচল জল, হারায় যৌবন কাল।
অগ্রায়হনে সোনার ফসল গাঁয়ের বধূর হাসি,
আনন্দেতে কৃষক নাচে, খুশীর জোয়ারে ভাসি।
পৌষ মাসে শীতের পিঠা, খেজুর রসে ভরা,
পুলি পিঠা-বাপা পিঠা-চিতই পিঠা সেরা।
হাড় কাঁপানো মাঘের শীত, কুয়াশায় দিন ঢাকে,
ভয়ে ভয়ে কাটে রাত নিশি পেচাঁর ডাকে।
ফাল্গুন মাসে মরা গাছে গজায় নবীন পাতা,
ধীরে ধীরে নেমে আসে গা মোড়ানো কাঁথা।
কচি কচি চিকন পাতা ডালে ডালে ফুল,
তারই সাথে পাল্লা দিয়ে আসে আমের বোল।
ভ্রমর নাচে ফুলের উপর, কোকিল করে সুর,
ভাবের ঘোরে বাউল কবির মন চলে যায় দূর।
চৈত্র মাসে খর রৌদ্রে আমের গুটি পড়ে,
চারিদিকে আগুন হাওয়া ফলের ফসল ঝরে।
গাছে ডাকে ঝিঝি পোঁকা-ডাহুক নাচে পাশে,
হাওয়ায় ঠেলে মাঠের ধুলো গাঁয়ে নিয়ে আসে।
লেখক-মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র।